ভেড়ামারা উপজেলায় চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে পাট চাষ হয়েছে। এবার উপজেলায় ৪ হাজার ৩শ ৬৫ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে, যেখানে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪ হাজার ২শ ৫৫ হেক্টর। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পাট উৎপাদনকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশ কাঁচা পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানিতে বিশ্বে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে। বর্তমানে পাট কাটা ও আঁশ ছাড়ানোর উপযুক্ত সময়। উপজেলার বিভিন্ন খাল-বিল, ডোবা, পুকুর ও পদ্মা নদীর শাখা হিসনা নদীতে কৃষকদের পাট জাগ দেওয়া ও আঁশ ছাড়ানোর ধুম পড়েছে। অনুকূল আবহাওয়া ও সময়মতো বৃষ্টিপাতের ফলে পাটের ফলন ভালো হয়েছে। বাজারে পাটের চাহিদা ও দাম সন্তোষজনক হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা যাচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, পাট কাটা, জাগ দেওয়া এবং আঁশ ছাড়ানোর কাজে কৃষকদের পাশাপাশি নারীরাও সমানতালে অংশ নিচ্ছেন। এরপর ধোয়া পাট ও পাটখড়ি রোদে শুকানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। কৃষকদের তথ্যমতে, বিঘা প্রতি ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা খরচ করে ৪৫ থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করা সম্ভব হচ্ছে। তবে তারা পাট চাষে সরকারি সহায়তা ও সুযোগ-সুবিধা আরও বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন। বর্তমানে স্থানীয় হাট-বাজারে নতুন পাট উঠতে শুরু করেছে। প্রতি মণ পাট ৩ হাজার ২শ টাকা থেকে ৪ হাজার ২শ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ভালো ফলন ও ন্যায্যমূল্য পাওয়ায় কৃষকদের চোখে-মুখে ক্লান্তির ছাপ নেই।
উপজেলার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সদরুল ইসলাম জানান, সরকারি প্রণোদনার আওতায় কৃষকদের উন্নত মানের বীজ সরবরাহ করা হয়েছে। মানসম্মত আঁশ পেতে পাট কাটার পর সঠিক পদ্ধতিতে জাগ দেওয়া, পরিষ্কার পানি ব্যবহার এবং আঁশ ছাড়ানোর পর ভালোভাবে শুকানোর বিষয়ে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদা সুলতানা পলি জানান, ভেড়ামারার মাটি পাট চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১১০ হেক্টর বেশি জমিতে পাট চাষ হয়েছে এবং ফলনও বেশ ভালো হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন :