রংপুর মহানগরীর বাহার কাছনা এলাকায় ৯ বছরের এক শিশুকে নির্যাতনের অভিযোগে ইমারত হোসেন (৫১) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত ১৯ সেটেম্বর শনিবার দুপুরে তাকে আদালতে হাজির করা হলে বিজ্ঞ বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।গ্রেপ্তারকৃত ইমারত হোসেন রংপুর নগরীর বাহার কাছনা এলাকার বাসিন্দা। অন্যদিকে, ভুক্তভোগী শিশুটি বর্তমানে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) চিকিৎসাধীন রয়েছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত ১৮ সেটেম্বর শুক্রবার রাতে অসুস্থ অবস্থায় শিশুটিকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাকে ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে ভর্তি রাখা হয়েছে। শিশুটির বাবা এই ঘটনার সুষ্ঠু ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত শুক্রবার কওমি মাদ্রাসার ওই শিশু শিক্ষার্থী মায়ের সঙ্গে প্রতিবেশীর বাড়িতে গিয়েছিল। সেখানে অসাবধানতাবশত শিশুটি বাড়ির বাইরে রাস্তায় বের হলে একা পেয়ে অভিযুক্ত ইমারত হোসেন তাকে পাশের একটি বাঁশঝাড়ে নিয়ে যান এবং জোরপূর্বক নির্যাতন চালান।অনেকক্ষণ পর শিশুটিকে রাস্তায় স্বজনদের কাছে দিয়ে অভিযুক্ত চলে যান। পরে বাড়িতে ফিরে শিশুটি বিষয়টি পরিবারকে জানায়। রাতে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে স্বজনরা তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।
ঘটনাটি জানাজানি হলে স্থানীয় বাসিন্দারা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন এবং অভিযুক্তকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে অভিযুক্ত স্থানীয় এক ব্যক্তির বাড়িতে লুকিয়ে থাকলে উত্তেজিত জনতা ওই বাড়িটি ঘেরাও করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে।খবর পেয়ে রাত সাড়ে ১০টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবার মাধ্যমে তথ্য পেয়ে হারাগাছ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে বিক্ষুব্ধ জনতা ও পুলিশের মধ্যে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পরবর্তীতে মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের উপকমিশনারসহ কোতোয়ালি ও হারাগাছ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা স্থানীয়দের বুঝিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন। এরপর ইমারত হোসেনকে কড়া সুরক্ষায় পুলিশের হেফাজতে থানায় নেওয়া হয়।হারাগাছ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অশোক চৌহান জানান, এ ঘটনায় শিশুটির বাবা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে আদালতের মাধ্যমে ইতিমধ্যে কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং ঘটনার তদন্ত নিয়মতান্ত্রিকভাবে চলছে।

আপনার মতামত লিখুন :