এমপিওভুক্তির অপেক্ষায় উমারপুর বাউসা আমিরুল ইসলাম খান আলিম নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়

মাহমুদুল হাসান , চৌহালী (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০২:১৭ পিএম

এমপিওভুক্তির অপেক্ষায় উমারপুর বাউসা আমিরুল ইসলাম খান আলিম নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়

ফাইল ফটো

শিক্ষার জন্য এসো, সেবার জন্য বেরিয়ে যাও’ এই মূলমন্ত্রকে সামনে রেখে যমুনার চরাঞ্চলে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার উমারপুরে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে উমারপুর বাউসা আমিরুল ইসলাম খান আলিম নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়। সাতটি গ্রামের মানুষের সমন্বিত উদ্যোগে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করা হয়।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উমারপুরের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হালিমের নেতৃত্বে অবহেলিত চরাঞ্চলের জনগোষ্ঠীর সন্তানদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে এক এ জানান, কোনো ধরনের সরকারি বেতন-ভাতা ছাড়াই তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে পাঠদান কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। মাসের পর মাস বিনা বেতনে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তাঁরা আর্থিক সংকটে পড়েছেন। পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে অনেক শিক্ষককে। একই সঙ্গে বিদ্যালয়টির পাঠদানের সরকারি স্বীকৃতি ও এমপিওভুক্তির অপেক্ষায় রয়েছেন তাঁরা।

স্থানীয়রা জানান, যমুনার চরাঞ্চলে শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি এবং শিশু-কিশোরদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ করে দেওয়ার লক্ষ্যেই বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। বর্তমানে ১৮০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে পাঠদান শুরু হলেও আগামী জানুয়ারি মাসে আরও দুই শতাধিক শিক্ষার্থী ভর্তি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন অভিভাবকরা। বিদ্যালয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা বলেন, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার সুবিধার্থে দ্রুত অবকাঠামো নির্মাণ, প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র, ওয়াশ ব্লক ও খেলাধুলার সামগ্রী সরবরাহের পাশাপাশি পাঠদানের সরকারি স্বীকৃতি এবং এমপিওভুক্তি জরুরি। এ দাবি জানিয়েছেন সাবেক ইউপি সদস্য আবু সাইদ সরকার, হজরত আলী, সাদ্দাম হোসেন, জাহাঙ্গীর আলম, আলহাজ্ব আবুল কালাম আজাদ, ম্যানেজিং কমিটির সদস্য ও ইউপি সদস্য আবদুল বাতেন, শহীদ মণ্ডল, সহকারি শিক্ষক শিউলি পারভীন, জাহাঙ্গীর আলম সহ এলাকার অভিভাবক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।

বাউসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল আলিম বলেন, ‘প্রতিষ্ঠার পর থেকেই শিক্ষার্থীদের শিক্ষা নিশ্চিত করতে প্রতিষ্ঠানটি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে কোনো সরকারি সহায়তা ও এমপিওভুক্তি না থাকায় শিক্ষক-কর্মচারীরা আর্থিক সংকটে রয়েছেন। বিদ্যালয়টি দ্রুত এমপিওভুক্ত করা প্রয়োজন। প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক কাবিরা খাতুন  ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিদ্যালয়ের ‘পাঠদান কার্যক্রম সচল রাখতে গিয়ে আমরা হিমশিম খাচ্ছি। কোনো বেতন-ভাতা ছাড়াই দায়িত্ব পালন করা আমাদের জন্য অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে পড়েছে। পরিবারের খরচ চালানোও কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই বিদ্যালয়টি দ্রুত এমপিওভুক্ত করে শিক্ষক-কর্মচারীদের জীবনমান নিশ্চিত করতে সরকারের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।’ 

উমারপুর ইউপি চেয়ারম্যান কামরুল ইসলাম মন্ডল বলেন, যমুনার চরাঅঞ্চলে রত্ন আছে, বিদ্যালয় ছিল না, এখানে এবিদ্যাপিঠ পুর্ণঙ্গতা পেলেই বেরিয়ে আসবে মেধাবী শিক্ষার্থী, আমরা চাই স্কুলটি স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণ ও পাঠদানে স্বকৃীতি। উমারপুর ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মো. হুমায়ুন কবির তয়ছের বলেন, ‘চরাঞ্চলের অবহেলিত জনগোষ্ঠীর জন্য এ ধরনের একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন ছিল। স্থানীয় সংসদ সদস্যের উদ্যোগে সেই প্রয়োজন পূরণ হয়েছে। এখন বিদ্যালয়টির অবকাঠামো নির্মাণ, আসবারপত্র, পাঠদানের স্বীকৃতি ও এমপিওভুক্তি প্রয়োজন। এ বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করছি।’

চৌহালী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার খালিদ মাহমুদ বলেন, ‘বিদ্যালয়টিতে দক্ষ জনবল দিয়ে পাঠদান কার্যক্রম সন্তোষজনকভাবে পরিচালিত হচ্ছে। বিদ্যালয়টি এমপিওভুক্ত হলে কর্মরত শিক্ষক-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা ও আর্থিক সংকট অনেকটাই দূর হবে। শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দাবি-যমুনার চরাঞ্চলের গ্রামগঞ্জের শিক্ষার্থী ও তরুণদের মধ্যে জ্ঞানচর্চার সুযোগ বাড়াতে এ ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করা হলে শিক্ষার মানোন্নয়ন আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে।’চরাঞ্চলে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়ার প্রত্যাশায় প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টির  এখন একটাই দাবি দ্রুত অবকাঠামো নির্মাণের পাশাপাশি বিদ্যালয়টির পাঠদানের স্বীকৃতি, ১০ম শ্রেনী পর্যন্ত পাঠদান চালু ও এমপিও ভুক্তির ব্যবস্থা করা। তাঁদের প্রত্যাশা, সরকারের শিক্ষা-বান্ধব উদ্যোগের মাধ্যমে বিদ্যালয়টি দ্রুত সরকারি সুযোগ-সুবিধার আওতায় আনার  আহবান জানান তারা।

সিয়াম সরিষা
Link copied!