ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ল্যাবরেটরি ও অগ্নিনিরাপত্তা বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত

ওয়াসিফ আল আবরার , ইবি সংবাদদাতা

প্রকাশিত: ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৭:২৭ পিএম

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ল্যাবরেটরি ও অগ্নিনিরাপত্তা বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ল্যাবরেটরি ও অগ্নিনিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দিনব্যাপী কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইন্স ক্লাবের উদ্যোগে পরীক্ষাগার ও অগ্নি নিরাপত্তা: প্রতিরোধ, প্রস্তুতি এবং জরুরি প্রতিক্রিয়া’ শীর্ষক এ কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়। আয়োজকরা জানান, দেশে প্রতিনিয়ত ল্যাবরেটরি বা অগ্নিকাণ্ডের যে দুর্ঘটনাগুলো ঘটে, তার প্রধান কারণ সচেতনতার অভাব। এ ধরনের বিষয়ে কেবল তাত্ত্বিক আলোচনার পরিবর্তে হাতে-কলমে শিক্ষা দেওয়া অত্যন্ত জরুরি ছিল। এছাড়া বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বিশেষ করে ভূমিকম্পের সময় অজ্ঞতাবশত মানুষ যেসব ভুল করে থাকে, তা তুলে ধরে করণীয় এবং ক্ষয়ক্ষতি থেকে বাঁচার উপায় সম্পর্কে আলোচনা করা হয়।

কর্মশালায় শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন গবেষণাগারের কেমিক্যাল ও রিএজেন্ট ব্যবহারের নিয়মাবলি এবং অগ্নি নিরাপত্তা বিষয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় অগ্নিকাণ্ডে আহত ব্যক্তিকে উদ্ধার প্রক্রিয়া, গ্যাস সিলিন্ডার লিকেজ থেকে আগুন লাগলে করণীয়, অগ্নি নির্বাপক যন্ত্রের সঠিক ব্যবহার এবং ভেজা বস্তা দিয়ে আগুন নেভানোর কৌশল শেখানো হয়। সাইন্স ক্লাবের সভাপতি জুনায়েদ মোস্তফার সভাপতিত্বে কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাইন্স ক্লাবের উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. শাহজাহান আলী এবং কুষ্টিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক ওয়াদুদ হোসাইন। রিসোর্স পারসন হিসেবে বক্তব্য রাখেন ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. আহসানুল হক।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বলেন, যেকোনো দুর্ঘটনা ঘটলে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা প্রাথমিক উদ্ধারকাজ পরিচালনা করলেও বাংলাদেশে সাধারণ মানুষ দ্রুত এগিয়ে আসে; তবে সঠিক প্রশিক্ষণের অভাবে তাদের আন্তরিকতা সত্ত্বেও সাফল্য শতভাগ পাওয়া যায় না। এছাড়া রাস্তার অপ্রশস্ততা ও যানজটের মতো বাস্তব সমস্যার কারণে যথাসময়ে উদ্ধারকাজে বিড়ম্বনা তৈরি হয়। তিনি আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে প্রশিক্ষণ থেকে অর্জিত জ্ঞান প্রাত্যহিক জীবনে প্রয়োগ এবং জনসেবায় ব্রতী হওয়ার আহ্বান জানান। সাইন্স ক্লাবের এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তৈরি হওয়া শিক্ষার্থীরা প্রশিক্ষক হিসেবে পরবর্তীতে অন্যদের উদ্বুদ্ধ ও প্রশিক্ষিত করবে বলে তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

সিয়াম সরিষা
Link copied!