যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের সম্ভাব্য আলোচনার আগে বাড়ল তেলের দাম

নিউজ ডেস্ক , প্রতিদিনের কাগজ

প্রকাশিত: ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:১১ এএম

যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের সম্ভাব্য আলোচনার আগে বাড়ল তেলের দাম

ফাইল ফটো

কয়েক দিনের দরপতনের পর মঙ্গলবার বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়েছে। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য আলোচনা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের নজর থাকায় বাজারে কিছুটা স্থিরতা ফিরেছে।

মঙ্গলবার রাত ১২টা ২১ মিনিটে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের নভেম্বরের ফিউচার ২২ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ২২ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০০ দশমিক ৫৭ ডলারে দাঁড়ায়। একই সময়ে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) অক্টোবরের ফিউচার, যার মেয়াদ মঙ্গলবার শেষ হচ্ছে, ২ সেন্ট বা শূন্য দশমিক শূন্য ২ শতাংশ বেড়ে ৯৫ দশমিক ৮০ ডলারে ওঠে।

বেশি লেনদেন হওয়া নভেম্বরের ডব্লিউটিআই চুক্তির দাম ১৩ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ১৪ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯২ দশমিক ৪৯ ডলারে দাঁড়ায়।

রয়টার্সকে কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, ডব্লিউটিআইয়ের দাম বাড়া এবং ব্রেন্টের বাজারে ঊর্ধ্বমুখী সূচনা সাম্প্রতিক দরপতনের পর সাধারণত যেভাবে স্বল্পমেয়াদি পুনরুদ্ধার দেখা যায়, তেমনই। এটি বাজারের মৌলিক অবস্থার বড় কোনো পরিবর্তনের ইঙ্গিত নয়।

তিনি বলেন, আরও দরপতনের আশায় বিনিয়োগকারীরা যেসব অবস্থান নিয়েছিলেন, কূটনৈতিক পরিস্থিতির অগ্রগতির মধ্যে তাঁরা সেসব ঝুঁকি কিছুটা কমিয়ে আনছেন।

রোববার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান পরস্পরকে হুমকি দিয়েছে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠকে বসতে তিনি আগ্রহী। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে পেজেশকিয়ান এ সপ্তাহে নিউইয়র্কে থাকবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে সপ্তাহান্তে ইরানও আবার আলোচনায় ফিরতে তাদের শর্ত মধ্যস্থতাকারীদের জানিয়েছে বলে আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। ইরানের নিরাপত্তাপ্রধান মোহসেন রেজাইয়ের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানানো হয়।

টিম ওয়াটারারের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় স্পষ্ট অগ্রগতি বা বড় ধরনের বাধা না আসা পর্যন্ত তেলের দাম নির্দিষ্ট একটি সীমার মধ্যে ওঠানামা করতে পারে এবং বিভিন্ন খবরের প্রতি সংবেদনশীল থাকবে।

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনাও অব্যাহত রয়েছে। ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুতিরা রিয়াদ ও সৌদি আরামকোর ইয়ানবুতে একটি স্থাপনায় হামলার দাবি করেছে। একই সঙ্গে সৌদি-সমর্থিত বাহিনীকে লোহিত সাগরের উপকূল থেকে বিচ্ছিন্ন করার প্রচেষ্টাও জোরদার করেছে তারা।

তিন ইরানি সূত্র জানিয়েছে, হুতিদের হামলা কমাতে তেহরানের ওপর চাপ দিতে চীনও ব্যক্তিগতভাবে ইরানকে আহ্বান জানিয়েছে। হুতিদের সামরিক তৎপরতা সাম্প্রতিক সময়ে বেড়ে যাওয়ার পর সৌদি আরব বেইজিংয়ের কাছে এ বিষয়ে সহযোগিতা চেয়েছিল।

এদিকে পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইনে হামলার পর ইয়ানবু দিয়ে কিছু চালান বন্ধ করতে বাধ্য হওয়ার পর সৌদি আরামকো হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল রপ্তানি বাড়িয়েছে। ট্যাংকার চলাচল পর্যবেক্ষণের তথ্য অনুযায়ী, রোববার পারস্য উপসাগরের ভেতরে সাতটি বড় তেলবাহী জাহাজে প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল তুলেছে আরামকো।

অন্যদিকে লিবিয়ার জাতীয় তেল করপোরেশনের চেয়ারম্যান মাসউদ সুলেমান রয়টার্সকে জানিয়েছেন, দেশটির শরারা তেলক্ষেত্রে উৎপাদন আংশিক কমেছে। তবে এর কারণ তিনি জানাননি।

Link copied!