ইয়েমেনে নতুন করে সংঘাত তীব্র হওয়ার পর সম্মুখসারিতে থাকা যোদ্ধাদের জন্য খাবার তৈরি ও সরবরাহ করছেন নারীরা। তাইজ প্রদেশে কয়েক বছর বন্ধ থাকার পর আবারও শুরু হয়েছে এই উদ্যোগ।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) মিডল ইস্ট আইয়ের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভোরে বড় বাটিতে ময়দা মেখে খেজুরভরা পেস্ট্রি ও বিস্কুট তৈরি করছেন তারা। এসব খাবারের সঙ্গে যোদ্ধাদের উদ্দেশে পাঠানো হচ্ছে বার্তা, ‘নারীরা তোমাদের পাশে আছে।’
নাসিম আল-ওদাইনি বলেন, ২০১৫ সালে আমরা এই উদ্যোগ শুরু করেছিলাম। তবে লড়াই কমে যাওয়ায় চার বছরেরও বেশি সময় এটি বন্ধ ছিল। তাইজ প্রদেশে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ার পর এখন আমরা এটি আবার চালু করেছি।
খাবার তৈরির অর্থ আসে নারীদের নিজেদের সঞ্চয় এবং পরিচিতজন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অনুসারীদের অনুদান থেকে। নিরাপত্তার কারণে অপরিচিত উৎসের তৈরি খাবার নেওয়া হয় না। বরং দাতাদের নির্ভরযোগ্য বিক্রেতার কাছ থেকে উপকরণ কিনে রসিদ দিতে বলা হয়।
নাসিমসহ কয়েকজন নারী নিজেরাই সম্মুখসারিতে গিয়ে খাবার পৌঁছে দেন। ২০১৫ সাল থেকে এ কাজে যুক্ত নাসিমের তিন সহকর্মী মোমেন, ওসামা ও রেহাম সরবরাহ পৌঁছে দিতে গিয়ে নিহত হয়েছেন। এরপরও থামেননি তিনি।
অন্যদিকে ইসরা আল-তাইয়েবের নেতৃত্বে আরেকটি দল বিস্কুট, দুধ, পানি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী পাঠাচ্ছে। তিনি বলেন, এই বিস্কুট, দুধ ও পানি যোদ্ধাদের মনে করিয়ে দেয় যে পুরো শহর তাদের পাশে আছে। তাই আমরা কাজ চালিয়ে যাব।
পশ্চিম তাইজের এক যোদ্ধা ছদ্মনাম আহমেদ বলেন, যখন দেখি খাবারভর্তি একটি গাড়ি সম্মুখসারিতে এসে পৌঁছেছে, তখন মনে হয় পুরো প্রদেশ আমাদের সঙ্গে যুদ্ধ করছে। আমরা একা নই।
মনোবিজ্ঞান বিশেষজ্ঞ হাইল আল-ফাকিহের মতে, ঘরে তৈরি খাবার যোদ্ধাদের জন্য শুধু খাদ্য নয়, বরং ঘর ও স্বজনদের সঙ্গে আবেগগত সংযোগেরও প্রতীক। তার ভাষায়, এটি বস্তুগত সহায়তার পাশাপাশি তাদের মানসিক শক্তিও বাড়ায়।
সূত্র : মিডলইস্ট আই

আপনার মতামত লিখুন :