ভুয়া তথ্য ও ব্ল্যাকমেইলে ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত, প্রতিকার চেয়ে নোমান গ্রুপের আবেদন

বিশেষ প্রতিনিধি , প্রতিদিনের কাগজ

প্রকাশিত: ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৩৯ এএম

ভুয়া তথ্য ও ব্ল্যাকমেইলে ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত, প্রতিকার চেয়ে নোমান গ্রুপের আবেদন

ফাইল ফটো

দেশের বস্ত্র ও পোশাক খাতের অন্যতম বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী নোমান গ্রুপ দাবি করেছে, একটি সংঘবদ্ধ চক্র তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ ছড়িয়ে বিদেশি ক্রেতা এবং ব্যাংকগুলোকে বিভ্রান্ত করছে। এর ফলে ক্রয়াদেশ বাতিল হচ্ছে, এলসি সীমা কমছে এবং ব্যবসায়িক ক্ষতি বাড়ছে। গ্রুপটির সহযোগী প্রতিষ্ঠান জাবের অ্যান্ড জোবায়ের ফেব্রিক্স লিমিটেড সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে চিঠি দিয়ে এ বিষয়ে দ্রুত আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, কাজল সরকার, হারুন অর রশিদ (বডি বিল্ডার হারুন), আনোয়ার হোসেন, হেলাল উদ্দিন ও দেলোয়ার হোসেনসহ কয়েকজন ব্যক্তি সরকারের বিভিন্ন দপ্তর, তফসিলি ব্যাংক, দুর্নীতি দমন কমিশন, এনবিআর, তিতাস গ্যাস এবং ওয়ালমার্ট, আইকিয়া, এইচঅ্যান্ডএম, কে-মার্ট, টার্গেট ও লিডলের মতো আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের বাংলাদেশ কার্যালয়ে মিথ্যা অভিযোগ দিচ্ছেন। এসব অভিযোগের কারণে ক্রেতারা কিছু ক্রয়াদেশ বাতিল বা স্থগিত করেছেন এবং আরও শত শত কোটি টাকার অর্ডার নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে দ্বিধাগ্রস্ত। একইসঙ্গে কয়েকটি ব্যাংক ঋণ ও এলসি সীমা কমিয়ে দিয়েছে বলে দাবি করেছে নোমান গ্রুপ।

নোমান গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. নুরুল ইসলাম বলেন, কোনো ব্যক্তির অভিযোগের সত্যতা যাচাই না করে যাতে ব্যাংকগুলো সিদ্ধান্ত না নেয়, সে বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে চিঠি দিয়েছি। এসব অভিযোগের পর কয়েকটি ব্যাংক আমাদের এলসি সীমা কমিয়েছে। এর মধ্যে একটি ব্যাংক ১০০ কোটি টাকার এলসি সীমা কমিয়ে ৫০ কোটি টাকা করেছে। এতে ব্যবসা পরিচালনা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি ৮০ হাজারের বেশি কর্মীর কর্মসংস্থান ঝুঁকির মুখে পড়ছে।

নোমান গ্রুপের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালে হারুন অর রশিদ ও তার ভাই আনোয়ার হোসেনকে ওয়েস্টেজ ও সিঅ্যান্ডএফ ব্যবসার সুযোগ দেওয়া হয়। ব্যবসার মূলধন না থাকায় গ্রুপের চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত হিসাব থেকে হারুনকে বিভিন্ন সময়ে মোট ৯৩ লাখ টাকা ধার দেওয়া হয়। ২০২০ সালের নভেম্বরে অনিয়ম ও প্রতারণার অভিযোগে তাদের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক বন্ধ করে দেওয়া হলে বিরোধ শুরু হয়।

এরপর হারুন গং হুমকি দিতে শুরু করেন বলে অভিযোগ। ২০২১ সালের জানুয়ারিতে মতিঝিল থানায় মামলা হয়। ওই মামলায় একই বছরের ৩০ ডিসেম্বর হারুনকে চার বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। পরবর্তীতে আনোয়ার হোসেন হাইকোর্টে  রিট পিটিশন দায়ের করেন। কাজল সরকার গাজীপুর দেওয়ানি মামলা ও ১০৭ ধারায় মামলা করেন। ওই ১০৭ ধারার মামলা সম্প্রতি নিষ্পত্তি হয়েছে বলে দাবি করেছে নোমান গ্রুপ।

চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, এই চক্রটি সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে একের পর এক মিথ্যা দরখাস্ত দিয়ে এবং নামসর্বস্ব কিছু পত্রিকায় ভিত্তিহীন প্রতিবেদন ছাপিয়ে নোমান গ্রুপের সুনাম ক্ষুন্ন করার চেষ্টা চালাচ্ছে। এর বিরুদ্ধে গ্রুপটি কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা এবং কাজল সরকারের বিরুদ্ধে সিআর মামলা করেছে।

অভিযোগের বিষয়ে কাজল সরকার বলেন, নোমান গ্রুপের সঙ্গে তার মূল বিরোধ টঙ্গীর পাগাড় এলাকায় প্রায় ৭০ বিঘা জমি নিয়ে। এ জমি নিয়ে আদালতে একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। তার দাবি, মামলা বিচারাধীন থাকা অবস্থায় ওই জমি ঋণের জামানত হিসেবে ব্যবহারের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ও আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের অবহিত করা তার দায়িত্বের অংশ। এ কারণে তিনি বাংলাদেশ ব্যাংক, দুর্নীতি দমন কমিশনসহ (দুদক) বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে অভিযোগ দিয়েছেন।

কাজল সরকার আরও বলেন, তিনি নোমান গ্রুপের বিরুদ্ধে গ্যাস চুরির অভিযোগও করেছিলেন। তবে তদন্তের পর অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে তাকে জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে তিতাস গ্যাসের ব্যবস্থাপক পুলক চাকমা দৈনিক প্রতিদিনের কাগজকে বলেন, ‘নোমান গ্রুপের বিষয়ে কাজল সরকার নামে এক ব্যক্তি লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন। অভিযোগের পর আমরা সরেজমিনে তদন্ত করেছি। তদন্তে অভিযোগের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের অভিযোগ বা সুপারিশের ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ঋণ দেওয়ার বিষয়ে নির্দেশনা দেয় না। ব্যাংকগুলোকে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারিত নীতিমালা অনুসরণ করতে হয়। ঋণগ্রহীতার প্রকৃত সম্পদ, আর্থিক সক্ষমতা ও পরিশোধের সামর্থ্য যাচাই করেই ঋণ ও এলসির সিদ্ধান্ত নিতে হয়।

নোমান গ্রুপের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক বাজারে সুনামের সঙ্গে ব্যবসা করছে এবং বড় পরিসরে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে। গ্রুপের বার্ষিক টার্নওভার প্রায় ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং এতে প্রায় ৮০ হাজার শ্রমিক-কর্মচারী কাজ করেন। জাবের অ্যান্ড জোবায়ের ফেব্রিক্স লিমিটেড টানা বহুবার জাতীয় রপ্তানি ট্রফি (গোল্ড) অর্জন করেছে। চিঠিতে জাতীয় অর্থনীতি ও ৮০ হাজার শ্রমিকের জীবন-জীবিকার কথা বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানায় প্রতিষ্ঠানটি।

সিয়াম সরিষা
Link copied!