ভেজাল বালাইনাশকে কৃষকের তিন বিঘা করলা ক্ষেত নষ্ট, দিশেহারা চাষি

আল মাহমুদ দোলন , পঞ্চগড় জেলা সংবাদদাতা

প্রকাশিত: ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:২৯ পিএম

ভেজাল বালাইনাশকে কৃষকের তিন বিঘা করলা ক্ষেত নষ্ট, দিশেহারা চাষি

পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলায় এক কৃষকের স্বপ্নের করলা ক্ষেত ভেজাল বালাইনাশক প্রয়োগের পর ঝলসে নষ্ট হয়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ধারের টাকায় গড়ে তোলা প্রায় তিন বিঘা জমির সবুজ বাগান এখন বিবর্ণ ও ফলহীন। এতে দেড় লাখ টাকারও বেশি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন ওই কৃষক। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ইসলাম উদ্দিন জানান, উপজেলার মির্জাপুর তেলিপাড়া এলাকায় ধারের টাকায় তিন বিঘা জমিতে করলার চাষ করেছিলেন তিনি। বাগানে ফলনও হয়েছিল চমৎকার। মাত্র দুই দফা করলা তুলে বাজারে বিক্রিও করেন। কিন্তু গত ১৮ অক্টোবর আটোয়ারী উপজেলা সদরের ফকিরগঞ্জ বাজারের কীটনাশক ব্যবসায়ী আনিছুর রহমানের দোকান থেকে ১১০০ টাকা দিয়ে ‘পেট্রোকেম বাংলাদেশ লিমিটেড’-এর ১০০০ মিলির ‘এম পেড’ নামক একটি জৈব বালাইনাশক কিনে আনেন। নিয়ম অনুযায়ী ক্ষেতে স্প্রে করার পরদিন থেকেই গাছের পাতা ও ডগা বিবর্ণ হতে শুরু করে। বৃহস্পতিবার পুরো ক্ষেতে গিয়ে দেখেন, বাগানের সব করলা গাছ ঝলসে গেছে এবং ফল ঝরে পড়ে নষ্ট হয়ে গেছে।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে কৃষক ইসলাম উদ্দিন বলেন, ‘এম পেড’ নামের ওষুধটি দেওয়ার পরেই আমার তিন বিঘা জমির পুরো বাগান শেষ হয়ে গেল। এই গাছে আর কোনো ফলন হবে না। চাষাবাদ করতে গিয়ে দেড় লাখ টাকার বেশি খরচ হয়েছে, যার পুরোটাই ধার-দেনা করা। এখন এই বিপুল লোকসান কীভাবে সামলাব? বালাইনাশক কেনার আগে কোম্পানির প্রতিনিধি ঘন ঘন আসলেও এখন তাকে আর পাওয়া যাচ্ছে না। দোকানদারও কোনো দায় নিচ্ছেন না। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, ক্ষতিপূরণ এবং ভেজাল বালাইনাশক বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার দাবি জানান। স্থানীয় কৃষক ফারুক হোসেন বলেন, আমাদের এলাকায় ইসলাম উদ্দিনের বাগানেই সবচেয়ে ভালো ফলন হয়েছিল। কিন্তু এই বালাইনাশক প্রয়োগের পর পুরো বাগান এক লহমায় শেষ হয়ে গেল। এই ক্ষতির দায় এখন কে নেবে? সরকারের উচিত দ্রুত ভেজাল বালাইনাশকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া।

আব্দুল কুদ্দুস নামে অপর এক কৃষক অভিযোগ করে বলেন, ইদানীং নামে-বেনামে বিভিন্ন কীটনাশক কোম্পানির প্রতিনিধিরা সহজ-সরল কৃষকদের ভুল বুঝিয়ে তাদের মানহীন পণ্য কিনতে বাধ্য করে। কিন্তু ওষুধে ক্ষতি হলে ওই প্রতিনিধিদের আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায় না। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে কীটনাশক বিক্রেতা আনিছুর রহমান লেবু বলেন, এই বালাইনাশক আরও অনেক কৃষক নিয়ে গেছেন, তাদের কোনো সমস্যা হয়নি। নিশ্চয়ই তিনি স্প্রে করার সময় নিয়ম মানেননি। একইভাবে ‘পেট্রোকেম বাংলাদেশ লিমিটেড’-এর আটোয়ারী উপজেলার অ্যাসিস্ট্যান্ট মার্কেটিং অফিসার সবুজ আলী বলেন, কৃষকের ক্ষেতে এমনটি কেন হলো বুঝতে পারছি না। হয়তো তিনি ওই ওষুধের সাথে অন্য কোনো রাসায়নিক মিশিয়ে স্প্রে করেছিলেন। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে আটোয়ারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোস্তাক আহমেদের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

Link copied!