শরতের নীল আকাশের নিচে কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার বিস্তীর্ণ কৃষিজমিতে দুলছে রোপা আমনের সবুজ ধান। কোনো কোনো খেতে ধানের শীষে দানা আসতে শুরু করেছে। প্রকৃতির স্নিগ্ধ পরিবেশে সবুজে ঘেরা মাঠ দেখে ভালো ফলনের আশায় বুক বাঁধছেন কৃষকেরা। তবে কোথাও কোথাও ইঁদুরের উপদ্রব ও পোকার আক্রমণে ধানখেত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় কিছুটা উদ্বেগও রয়েছে তাঁদের মধ্যে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষিজমি ঘুরে দেখা গেছে, রোপা আমন ধানের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা। ধানের বর্তমান অবস্থা ভালো থাকায় অনেকেই এবার আশানুরূপ ফলনের প্রত্যাশা করছেন। তাঁদের কাছে আমনের ফলন শুধু কৃষিকাজের সাফল্য নয়, বরং পরিবারের ভরণপোষণ, সন্তানদের পড়াশোনা এবং দৈনন্দিন চাহিদা পূরণের অন্যতম ভরসা।
উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে কুলিয়ারচরের ছয়টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা এলাকায় মোট ৬ হাজার ৭২০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন ধানের আবাদ হয়েছে, যা গতবারের তুলনায় ১৫ হেক্টর বেশি। কৃষকদের ভাষ্যমতে, কয়েকটি জমিতে ইঁদুরের আক্রমণে ধানের ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া পোকার আক্রমণেও কিছু ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মাঠপর্যায়ে প্রত্যাশিত প্রতিকার না পাওয়ায় তাঁরা কিছুটা দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। তবে ক্ষয়ক্ষতি তুলনামূলক কম এবং অধিকাংশ জমির ফসলের অবস্থা ভালো থাকায় তাঁরা আশাবাদী। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং রোগবালাই নিয়ন্ত্রণে রাখা গেলে এবার আমনের ভালো ফলন পাওয়া যাবে বলে আশা করছেন তাঁরা। কৃষকদের মতে, চাষাবাদের প্রয়োজনীয় উপকরণ সময়মতো ও সাশ্রয়ী মূল্যে পাওয়া গেলে উৎপাদন খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হয়। পাশাপাশি ফসলে রোগবালাই বা পোকার আক্রমণ দেখা দিলে দ্রুত কৃষি বিভাগের পরামর্শ ও কার্যকর সহযোগিতা পাওয়া জরুরি।
কুলিয়ারচর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মর্জিনা আক্তার বলেন, আমনের উৎপাদন বাড়াতে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ইঁদুর ও পোকার আক্রমণ থেকে ফসল রক্ষায় জমির আইল ও আশপাশের ঝোপঝাড় পরিষ্কার রাখা, পার্চিং পদ্ধতি ব্যবহার এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অনুমোদিত বালাইনাশক প্রয়োগের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। সবুজ ধানখেতের দিকে তাকিয়ে এখন কৃষকদের চোখে সোনালি ফসল ঘরে তোলার স্বপ্ন। পরিচর্যা, অনুকূল আবহাওয়া ও রোগবালাই নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সেই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নেবে এমন প্রত্যাশাই তাঁদের। মাঠের সবুজ ধান পেকে সোনালি হলে ঘরে ফিরবে নতুন আশার আলো, স্বস্তি মিলবে কৃষক পরিবারের জীবনযাত্রায়।

আপনার মতামত লিখুন :