কিশোরগঞ্জের ভৈরবে প্রথমবারের মতো ব্যাগিং পদ্ধতিতে কলা চাষ করে সফল হয়েছেন কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নের আকবরনগর গ্রামের কৃষক হাফিজুর রহমান। এই পদ্ধতিতে কলা চাষে ক্ষতিকর পোকামাকড়ের আক্রমণ হয় না। পাশাপাশি কলার ছড়ি বড় হওয়ার সঙ্গে কলার আকারও বড় হয় এবং সাধারণ কলার তুলনায় এই কলা অধিক সুস্বাদু। বিষমুক্ত হওয়ায় বাজারে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে এবং ভালো দামও পাওয়া যাচ্ছে। সরেজমিনে জানা যায়, উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শ ও সার্বিক তত্ত্বাবধানে হাফিজুর রহমান প্রায় দুই বিঘা জমিতে চারশ নেপালি জাতের কলার চারা রোপণ করেন। ব্যাগিং পদ্ধতিসহ এতে তার খরচ হয়েছে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা। কলা রোপণের কয়েক মাসের মধ্যেই ফলন আসতে শুরু করে। কলার কাঁদি বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তা ব্যাগ দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়। এতে কোনো প্রকার বিষ প্রয়োগ ছাড়াই কলার গুণগত মান ও আকর্ষণীয় রং বজায় থাকে।
কৃষক হাফিজুর রহমান জানান, এ পর্যন্ত তিনি প্রায় ৫০ হাজার টাকার কলা বিক্রি করেছেন। জমিতে থাকা অবশিষ্ট কলা থেকে আরও প্রায় দেড় থেকে দুই লাখ টাকা আয় হবে বলে তিনি আশা করছেন। ব্যাগিং পদ্ধতির কারণে কলার আকার বড় হয় এবং রং নষ্ট হয় না, যা তাকে আর্থিকভাবে লাভবান করেছে। তার এই সাফল্য দেখে এলাকার অন্য কৃষকরাও উৎসাহিত হচ্ছেন। স্থানীয় কৃষক রাসেল আহমেদ বলেন, “ব্যাগিং পদ্ধতিতে কলা চাষ আমাদের এলাকায় এই প্রথম। এই পদ্ধতিতে প্রতিটি ছড়িতে ২০ থেকে ২২টি কাঁদি এবং প্রতিটি কাঁদিতে ১৫ থেকে ২০টি কলা পাওয়া যায়। ব্যাগ দিয়ে ঢেকে রাখায় পোকামাকড় কোনো ক্ষতি করতে পারে না। হাফিজুরের সাফল্য দেখে আমরাও এখন এই পদ্ধতিতে চাষাবাদের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”
কৃষাণী রুবিয়া বেগম বলেন, “হাফিজুরের এই চাষাবাদ দেখে আমাদেরও ভালো লেগেছে। আমরাও আগামীতে এই পদ্ধতিতে কলা চাষ করব। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আকলিমা বেগম বলেন, “ভৈরবে এই প্রথম আধুনিক ব্যাগিং পদ্ধতিতে পরীক্ষামূলকভাবে কলা চাষ করা হয়েছে। বিষমুক্ত, সুস্বাদু এবং আকর্ষণীয় রঙের কারণে বাজারে এই কলার চাহিদা ও দাম দুটিই বেশি। কৃষকদের মধ্যে এই পদ্ধতির প্রতি ব্যাপক আগ্রহ পরিলক্ষিত হচ্ছে। আশা করছি, আগামীতে এই এলাকায় ব্যাগিং পদ্ধতিতে কলা চাষ আরও বৃদ্ধি পাবে।”

আপনার মতামত লিখুন :