চুরি করতে গিয়ে চিনে ফেলায় ধরা পড়ার ভয়ে শিক্ষিকা ডালিয়া আক্তারকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। গত শুক্রবার সকালে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের আব্দুল্লাহপুরের রসুলপুর বাজার এলাকার একটি ফ্ল্যাটে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। ঘটনার দুই দিনের মধ্যে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁদের দাবি, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান থানার চান্দেরচর এলাকার মো. আশিক (২৩), চরগুলাগুলিয়া এলাকার মো. আলমগীর হোসেন (৩৬) ও মধ্যেপাড়া এলাকার মো. অনিক (১৯)।
রোববার বেলা ১১টার দিকে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তরিকুল ইসলাম। পুলিশ জানায়, গত ২৩ অক্টোবর সকাল ছয়টার মধ্যে সুইডেন প্লাজার তৃতীয় তলার একটি ফ্ল্যাটে ডালিয়া আক্তারকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে হত্যা করা হয়। অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে ডালিয়ার আগে থেকেই পরিচয় ছিল। তাঁরা জানতেন, সকালে গৃহকর্মীর আসার সুবিধার্থে ডালিয়া বাসার দরজা খোলা রাখতেন। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে চুরির উদ্দেশ্যে পাশের ভবনের ছাদ দিয়ে তাঁরা ওই ফ্ল্যাটে প্রবেশ করেন।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, বাসায় তাঁদের উপস্থিতি টের পেয়ে ডালিয়া চিৎকার করেন এবং তাঁদের চিনে ফেলেন। এতে ধরা পড়ার আশঙ্কা তৈরি হলে তাঁরা ডালিয়াকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেন এবং গলা কেটে হত্যা করেন। পরে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান তাঁরা। পুলিশ জানায়, হত্যার পর আশিক ও আলমগীর ছাদ দিয়ে পালিয়ে যান। অন্যদিকে অনিক বোরকা পরে বাসার মূল দরজা দিয়ে বেরিয়ে যান। পালানোর সময় তাঁরা বোরকা ও জুতা বালুর মাঠে ফেলে যান। হত্যাকাণ্ডের পরপরই তদন্তে নামে পুলিশ। ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণের পাশাপাশি গোয়েন্দা তথ্য ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের শনাক্ত করার চেষ্টা করা হয়।
ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শামীমা পারভীনের নির্দেশনায় অভিযান চালিয়ে প্রথমে মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান থানার বালুরচর এলাকা থেকে অনিককে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের আব্দুল্লাহপুর বাজার এলাকা থেকে আশিক ও আলমগীরকে গ্রেপ্তার করা হয়। অনিকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বালুর মাঠ থেকে বোরকা ও জুতাও উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার তিনজন হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তবে তাঁদের বক্তব্যসহ ঘটনার বিভিন্ন দিক যাচাই করে দেখছেন তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। এ ঘটনায় নিহত ডালিয়া আক্তারের মেয়ে বাদী হয়ে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেছেন। গ্রেপ্তার তিনজনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন :