বিল্লাল হোসেন মানিক, ময়মনসিংহ: পুলিশ জেগে থাকবে, জেলাবাসী শান্তিতে ঘুমাবে। জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ রাত জেগে পাহারা দেবে। অপরাধ দমন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।’ এমন দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরুল হাসান। শনিবার (৩১ অক্টোবর ২০২৬) রাত ৮টার দিকে ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানা পরিদর্শন শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
পুলিশ সুপার থানায় পৌঁছালে তাঁকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান কোতোয়ালি সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আসাদুজ্জান শাকিল ও কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শিবিরুল ইসলাম। এ সময় পুলিশ সুপার থানায় কর্মরত কর্মকর্তা ও পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। এসময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) আশরাফুল করিম উপস্থিত ছিলেন। সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরুল হাসান বলেন, ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানা বিভাগীয় শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত। গুরুত্বপূর্ণ এই থানার পুলিশ সদস্যরা ছিনতাই, চুরি, মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধ নিয়ন্ত্রণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
তিনি বলেন, ‘আমি পুলিশ সুপার হিসেবে যোগদানের পর থেকেই ময়মনসিংহ জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছি। সাধারণ মানুষ যেন নিরাপদে বসবাস করতে পারেন, সে জন্য পুলিশ দিনরাত দায়িত্ব পালন করছে। পুলিশ জেগে থাকবে, জেলাবাসী শান্তিতে ঘুমাবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা। মাদক নিয়ন্ত্রণে পুলিশের কঠোর অবস্থানের কথা তুলে ধরে পুলিশ সুপার বলেন, মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনার জন্য পুলিশের তিনটি বিশেষ টিম কাজ করছে। এসব টিম নিয়মিত অভিযান চালিয়ে মাদক কারবারিদের গ্রেপ্তার করছে।
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘মাদকের সঙ্গে পুলিশের কোনো আপস নেই। মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি কিংবা মাদক কারবারিদের সঙ্গে যোগসাজশ রয়েছে—এমন কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। অপরাধের সঙ্গে যারাই জড়িত থাকুক না কেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’ জেলার রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গে পুলিশ সুপার বলেন, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সম্ভাব্য ঝটিকা মিছিল এবং আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নকারী কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে পুলিশের তিনটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে। এসব টিম নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান পরিচালনা করছে। আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অপরাধীদের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে। জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশ সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে। ময়মনসিংহ বিভাগীয় শহরের ভবিষ্যৎ পুলিশি ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে পুলিশ সুপার বলেন, একসময় ময়মনসিংহ বিভাগীয় শহরে মেট্রোপলিটন পুলিশ ব্যবস্থা চালু হবে। তখন কয়েক হাজার পুলিশ সদস্যের সমন্বয়ে নগরীর আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
তিনি বলেন, বর্তমানে কোতোয়ালি মডেল থানার অধীনে প্রায় ১৫০ জন পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। সীমিত জনবল নিয়েও তাঁরা আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছেন। ফলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির যথেষ্ট উন্নতি হয়েছে। পুলিশ সদস্যদের মনোবল প্রসঙ্গে এসপি কামরুল হাসান বলেন, ‘আগের তুলনায় পুলিশের মনোবল এখন অনেক চাঙা। পুলিশ সদস্যরা দিনরাত পরিশ্রম করছেন। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাঁরা নিজেদের দায়িত্ব পালনে সচেষ্ট রয়েছেন।’
তিনি আরও বলেন, পুলিশ জনগণের বন্ধু। মানুষের জানমালের নিরাপত্তা রক্ষা, অপরাধ প্রতিরোধ এবং শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনে পুলিশের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে শুধু পুলিশের একার পক্ষে অপরাধ নির্মূল করা সম্ভব নয়। এ জন্য সাধারণ মানুষের সচেতনতা, সহযোগিতা ও পারস্পরিক আস্থা প্রয়োজন।
পরিশেষে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরুল হাসান ময়মনসিংহ জেলাকে অপরাধমুক্ত, নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ রাখতে পুলিশ প্রশাসনের পাশাপাশি সর্বস্তরের জনগণকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

আপনার মতামত লিখুন :