​চোরাচালান-হুন্ডিতে জড়িত পুলিশ কনস্টেবল, মাসে কোটি টাকার লেনদেনের অভিযোগ

নিউজ ডেস্ক , প্রতিদিনের কাগজ

প্রকাশিত: ০৫ নভেম্বর, ২০২৬, ০৮:৩১ এএম

​চোরাচালান-হুন্ডিতে জড়িত পুলিশ কনস্টেবল, মাসে কোটি টাকার লেনদেনের অভিযোগ

ফাইল ফটো

জাহাঙ্গীর আলম তপু, ​সিলেট: সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি বরাবর এক পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা, অর্থ আত্মসাৎ, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং সীমান্ত দিয়ে অবৈধ চোরাচালান ও হুন্ডি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার চাঞ্চল্যকর লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

​অভিযুক্ত ওই পুলিশ সদস্যের নাম সিদ্দিকুর রহমান (বিপি নম্বর-১২১৩১৮৬৫২৩)। তিনি বর্তমানে সিলেট রেঞ্জের হবিগঞ্জ জেলায় (পিআইও শাখায়) কর্মরত রয়েছেন।

​গোয়াইনঘাট উপজেলার জালালীর এলাকার তোতাকুল গ্রামের বাসিন্দা ও অভিযোগকারী দুলাল আহমদ এই লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এ ঘটনায় তিনি গোয়াইনঘাট থানায় সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করেছেন। অভিযোগকারীর দাবি, অভিযুক্ত পুলিশ সদস্য ও তার সহযোগীদের অব্যাহত হুমকির মুখে তিনি পরিবার নিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।

অভিযোগে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত পুলিশ সদস্য দীর্ঘদিন ধরে নিজের এলাকায় ও বিভিন্ন মাধ্যমে চোরাচালান সংক্রান্ত ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। গোয়াইনঘাট সীমান্ত দিয়ে জিরো পয়েন্ট, ফুসকা, বিস্কুট, চকলেট, কসমেটিকস ও থ্রিপিসসহ বিভিন্ন ভারতীয় পণ্য চোরাচালানের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা রয়েছে। হবিগঞ্জ ও ভৈরবসহ অন্তত ৫টি জেলায় এই অবৈধ কার্যক্রম বিস্তৃত। চোরাচালানের প্রতিটি গাড়ি থেকে ১ থেকে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত প্রতিনিয়ত কামিয়ে নিচ্ছেন।

 এছাড়া হুন্ডি ব্যবসার মাধ্যমে প্রতি মাসে তার ব্যাংক হিসাবে কোটি টাকার ওপরে লেনদেন হয়। স্থানীয়রা বিষয়টি জানলেও পুলিশ সদস্য হওয়ায় হয়রানির ভয়ে কেউ প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পান না।

হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর এবং বিভিন্ন মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) ব্যবহার করে নোটের নম্বর ও মুদ্রাসংক্রান্ত তথ্য আদান-প্রদান এবং অবৈধ মুদ্রা বিনিময়ের কার্যক্রম পরিচালনা করেন সিদ্দিকুর রহমান। তার স্ত্রী ও ভাই দুবাই ও জাপানসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থান করে এসব অবৈধ কার্যক্রমে সহযোগিতা করছেন। এছাড়া ২০২৩-২০২৪ সালের দিকে অভিযুক্ত পুলিশ কনস্টেবল সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরব ভ্রমণ করেছেন এবং তার পাসপোর্টে একাধিক দেশের ভিসা রয়েছে।

সম্প্রতি অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত একটি ভারতীয় পণ্য চোরাচালানের গাড়ি শাহপরান থানা পুলিশ কর্তৃক আটক হয়। এরপর ক্ষুব্ধ হয়ে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্য বাদীকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টা করেন এবং বিভিন্ন মাধ্যমে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেন। এর ফলে বাদীর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা সম্পূর্ণ ব্যাহত হচ্ছে।

​পুলিশের নিজ রেঞ্জে দীর্ঘদিন কর্মরত থেকে এবং গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থেকে এ ধরনের অবৈধ ব্যবসা পরিচালনার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। অভিযোগকারী ন্যায়বিচার, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং জনস্বার্থে এ ঘটনার একটি নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

পুলিশ কনস্টেবল অভিযুক্ত সিদ্দিকের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে বারবার ফোন করা হলেও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠানো হলেও কোন উত্তর মেলেনি।

সিয়াম সরিষা
Link copied!