এম. নাছির উদ্দীন , কলাপাড়া : বাংলাদেশ জাতীয় সংসদে ‘অভিবাসন, অধিকার ও উন্নয়নবিষয়ক সংসদীয় ককাস’ গঠন করা হয়েছে। এ ককাসের চেয়ারম্যান করা হয়েছে পটুয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য এ বি এম মোশাররফ হোসেনকে। ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের আইপিআর অ্যান্ড এস উইং থেকে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, অভিবাসন, অভিবাসীদের অধিকার এবং উন্নয়ন সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সংসদ সদস্যদের আরও সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত করা এবং এসব বিষয়ে সমন্বয় জোরদারের লক্ষ্যে এ ককাস গঠন করা হয়েছে।
ককাসের প্রধান উদ্দেশ্য হলো নিরাপদ, সুশৃঙ্খল, নিয়মিত ও অধিকারভিত্তিক অভিবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। পাশাপাশি অভিবাসন-সংক্রান্ত বিদ্যমান আইন ও নীতিমালার কার্যকর বাস্তবায়ন এবং এসব বিষয়ে সংসদের নজরদারি আরও শক্তিশালী করার কথা বলা হয়েছে। এছাড়া অভিবাসন বিষয়ে কার্যকর নীতি গ্রহণে সুপারিশ প্রদান এবং সরকারি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, উন্নয়ন সহযোগী, নাগরিক সমাজ, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, প্রবাসী বাংলাদেশি ও অন্যান্য অংশীজনের মধ্যে সহযোগিতা ও সমন্বয় বাড়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে চেয়ারম্যান এ বি এম মোশাররফ হোসেন ছাড়াও আরও নয়জন সংসদ সদস্যকে ককাসের সদস্য করা হয়েছে। এতে বিভিন্ন নির্বাচনী এলাকার সংসদ সদস্যদের পাশাপাশি সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্যরাও রয়েছেন। অভিবাসন খাতে সংসদীয় ভূমিকা জোরদারের উদ্যোগ বাংলাদেশের অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে বিদেশে কর্মসংস্থান এবং প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। একই সঙ্গে বিদেশগামী কর্মীদের নিরাপত্তা, প্রতারণা প্রতিরোধ, ন্যায্য নিয়োগ, কর্মপরিবেশ ও অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়গুলোও দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় রয়েছে।
নতুন এই সংসদীয় ককাসের ঘোষিত উদ্দেশ্যের মধ্যে এসব বিষয়ে নীতিগত সুপারিশ, আইন ও নীতিমালার বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণ এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। পটুয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য এ বি এম মোশাররফ হোসেন জাতীয় পর্যায়ে অভিবাসন, অধিকার ও উন্নয়নবিষয়ক এই সংসদীয় ককাসের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পাওয়ায় বিষয়টি তাঁর নির্বাচনী এলাকার জন্যও তাৎপর্যপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।
বিশেষ করে উপকূলীয় এলাকার মানুষের বিদেশে কর্মসংস্থান, দক্ষতা উন্নয়ন, নিরাপদ অভিবাসন এবং প্রবাসীদের পরিবারের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে ভবিষ্যতে জাতীয় পর্যায়ে আলোচনা ও নীতিগত উদ্যোগের সুযোগ তৈরি হতে পারে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, জাতীয় সংসদের স্পিকার ককাসের প্রধান পৃষ্ঠপোষক এবং ডেপুটি স্পিকার পৃষ্ঠপোষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। ককাসের কার্যক্রম পরিচালনায় প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে সংসদ সচিবালয়।

আপনার মতামত লিখুন :