রহস্যে ঘেরা আলীকদমের ‘আলী সুড়ঙ্গ’: অন্ধকার পেরোলেই আলোর দেখা

মোঃ হাসান , বান্দরবান, জেলা সংবাদদাতা

প্রকাশিত: ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৫:০১ পিএম

রহস্যে ঘেরা আলীকদমের ‘আলী সুড়ঙ্গ’: অন্ধকার পেরোলেই আলোর দেখা

ফাইল ফটো

পাহাড়ের বুক চিরে তৈরি এক অদ্ভুত সুড়ঙ্গ যেখানে প্রবেশ মানেই অন্ধকারের গভীরে হারিয়ে যাওয়া, আর শেষ প্রান্তে অপেক্ষা করে আলোর ঝলক। বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার ‘আলী সুড়ঙ্গ’ যেন প্রকৃতির নিজ হাতে গড়া এক রহস্যময় বিস্ময়, যা পর্যটকদের কাছে দিন দিন হয়ে উঠছে রোমাঞ্চের নতুন ঠিকানা। গভীর খাদে অবস্থিত এই সুড়ঙ্গের দুই পাশে খাড়া পাথরের দেয়াল, চারপাশে স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ আর নিস্তব্ধতা মিলিয়ে তৈরি হয় গা ছমছমে এক অনুভূতি। কিছুদূর এগোলেই চারপাশ ঢেকে যায় ঘুটঘুটে অন্ধকারে। আলো ছাড়া সামনে এগোনো প্রায় অসম্ভব। তবে সেই অন্ধকার ভেদ করে এগোলে একসময় দেখা মেলে সুড়ঙ্গের অপর প্রান্তে আলো যা ভ্রমণপিপাসুদের জন্য বাড়তি উত্তেজনার উৎস।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে পাহাড়ি ঝিরির পানিপ্রবাহ ও বাতাসের ঘর্ষণে এই সুড়ঙ্গের সৃষ্টি। যদিও এর নামকরণ ও উৎপত্তি নিয়ে রয়েছে নানা মতভেদ ও লোককথা, যা রহস্যকে আরও গভীর করেছে। আলী সুড়ঙ্গে পৌঁছানো সহজ নয়। আলীকদম উপজেলা সদর থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে মারমা অধ্যুষিত মংচ প্রু পাড়া পর্যন্ত যানবাহনে যাওয়া যায়। এরপর শুরু হয় দুর্গম পথচলা ঘন জঙ্গলের ভেতর দিয়ে পায়ে হাঁটা পথ, পাশে বয়ে চলা তৈনখাল। খালের দুপাশে উঁচু পাহাড়ের সরু খাত ধরে প্রায় ৪০০ মিটার এগোলেই চোখে পড়ে সুড়ঙ্গের প্রবেশমুখ।

প্রায় ২০-২৫ ফুট উঁচুতে অবস্থিত এই প্রবেশপথে উঠতে আগে ছিল বড় ধরনের ঝুঁকি। তবে কয়েক বছর আগে সেনাবাহিনী সেখানে লোহার সিঁড়ি নির্মাণ করায় এখন যাতায়াত অনেকটাই সহজ হয়েছে। ফলে পর্যটকদের আগ্রহও বেড়েছে। স্থানীয় ট্যুর গাইডদের তথ্যমতে, সুড়ঙ্গটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৮০ থেকে ৯০ ফুট। ভেতরে কিছু অংশ অত্যন্ত সংকীর্ণ, যেখানে সতর্ক না হলে চলাচল কঠিন হয়ে পড়ে। এছাড়া সুড়ঙ্গের অন্ধকার অংশে রয়েছে অসংখ্য বাদুড়ের বসবাস, যা পরিবেশকে আরও রহস্যময় করে তোলে।

প্রতি বছর বিশেষ করে সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে এখানে ভিড় করেন অসংখ্য পর্যটক। দুর্গম পথ, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আর রোমাঞ্চের মিশেলে আলী সুড়ঙ্গ এখন বান্দরবানের অন্যতম আকর্ষণীয় ভ্রমণস্থল হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে। স্থানীয় প্রবীণদের মতে, ‘আলী সুড়ঙ্গ’ নামটির পেছনে রয়েছে মারমা ভাষার প্রভাব ও প্রাচীন লোকবিশ্বাস। তবে এর সঠিক ইতিহাস এখনো অজানা রয়ে গেছে। আর এই অজানাই যেন ভ্রমণপ্রেমীদের আরও বেশি টানে এই রহস্যঘেরা সুড়ঙ্গের দিকে।

সিয়াম সরিষা
Link copied!