চাঁদপুরের মতলব উত্তর থেকে নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ১২ ঘণ্টার মধ্যে ছেংগারচর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী রাতুল দেবনাথ (১৩)-কে বান্দরবানের দুর্গম পাহাড়ি এলাকা ১২ মাইল থেকে উদ্ধার করেছে মতলব উত্তর থানা পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অবস্থান শনাক্ত করে অভিযান চালিয়ে তাকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া রাতুল দেবনাথ ছেংগারচর বাজারের স্বর্ণ ব্যবসায়ী বিশ্বজিৎ চন্দ্র দেবনাথের ছেলে।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ সকাল আনুমানিক ১১টা ৩০ মিনিটে বিদ্যালয়ে আসার পর নিখোঁজ হয় রাতুল। বিদ্যালয়ে যাওয়ার পর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও সে বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। পরে স্বজনরা সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করলেও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। এ সময় রাতুলের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটিও বন্ধ পাওয়া যায়।
নিখোঁজের পর একই দিন সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টা ১৫ মিনিটে রাতুল তার ফেসবুক পেজে ‘Miss you Ma’ লিখে একটি স্ট্যাটাস দেয়। বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের নজরে আসার পর তাদের উদ্বেগ আরও বেড়ে যায়। সম্প্রতি কুমিল্লায় সংঘটিত একটি কিশোর হত্যাকাণ্ডের ঘটনার প্রেক্ষাপটে পরিবারের মধ্যে আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠা সৃষ্টি হয়। পাশাপাশি রাতুলের নিখোঁজের বিষয়টি এলাকায়ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।
পরে রাতুলের বাবা বিশ্বজিৎ চন্দ্র দেবনাথ মতলব উত্তর থানায় উপস্থিত হয়ে ছেলের নিখোঁজের বিষয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করে চাঁদপুর জেলা পুলিশ দ্রুত নিখোঁজ কিশোরের সন্ধানে কার্যক্রম শুরু করে। চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমানের সার্বিক দিকনির্দেশনায়, সহকারী পুলিশ সুপার, মতলব সার্কেল জাবীর হুসনাইন সানীব এবং মতলব উত্তর থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ কামরুল হাসানের তত্ত্বাবধানে পুলিশের একটি বিশেষ আভিযানিক দল কাজ শুরু করে।
আভিযানিক দলের সদস্য এসআই (নিরস্ত্র) জীবন চৌধুরী ও এএসআই (নিরস্ত্র) রবিউল হোসেন বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণ, সম্ভাব্য গতিবিধি পর্যালোচনা এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নিখোঁজ রাতুলের অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা চালান। একপর্যায়ে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় রাতুলের অবস্থান বান্দরবান জেলার সদর থানাধীন দুর্গম পাহাড়ি এলাকার ১২ মাইলে শনাক্ত করা হয়। পরে শনাক্তকৃত অবস্থানের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান পরিচালনা করে রাতুল দেবনাথকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
পুলিশের এই দ্রুত ও সমন্বিত অভিযানের ফলে নিখোঁজের প্রায় ১২ ঘণ্টার মধ্যে বান্দরবানের দুর্গম পাহাড়ি এলাকা থেকে কিশোর রাতুলকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। উদ্ধারের পর প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাকে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। রাতুলকে ফিরে পেয়ে স্বস্তি ফিরেছে তার পরিবারে। একই সঙ্গে তথ্যপ্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার, দ্রুত পদক্ষেপ এবং আন্তঃজেলা সমন্বয়ের মাধ্যমে চাঁদপুর জেলা পুলিশের এই উদ্ধার অভিযান স্থানীয়ভাবে প্রশংসিত হয়েছে। চাঁদপুর জেলা পুলিশ জানিয়েছে, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জনগণের যেকোনো বিপদে দ্রুত সাড়া দেওয়ার লক্ষ্যে তাদের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

আপনার মতামত লিখুন :