কেশবপুরে বিভিন্ন জলাশয়ে ২৯০ কেজি পোনামাছ অবমুক্ত

হারুনার রশীদ বুলবুল , কেশবপুর (যশোর) সংবাদদাতা

প্রকাশিত: ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৩:৫৬ পিএম

কেশবপুরে বিভিন্ন জলাশয়ে ২৯০ কেজি পোনামাছ অবমুক্ত

জলাশয়ে ফিরবে দেশীয় মাছ, বাড়বে জীববৈচিত্র্য’—এই প্রতিপাদ্য সামনে রেখে দেশীয় মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি, মৎস্যসম্পদের উন্নয়ন এবং জলাশয়ের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের লক্ষ্যে যশোরের কেশবপুরে বিভিন্ন জলাশয়ে ২৯০ কেজি পোনামাছ অবমুক্ত করা হয়েছে। ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের আওতায় বুধবার সকালে কেশবপুর উপজেলা মৎস্য অফিসের বাস্তবায়নে উপজেলা পরিষদ চত্বরের পুকুরে পোনামাছ অবমুক্ত করার মধ্য দিয়ে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আনোয়ার হোসেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কেশবপুর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সুদীপ বিশ্বাসসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা পরিষদের পুকুরে ৪০ কেজি, কেশবপুর থানার পুকুরে ২৫ কেজি, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পুকুরে ২৫ কেজি, উপজেলা পাবলিক মাঠসংলগ্ন ভূমি অফিসের পুকুরে ২০ কেজি, খাদ্য গুদামের পুকুরে ২০ কেজি, পানি উন্নয়ন বোর্ডের পুকুরে ২০ কেজি, কেশবপুর সরকারি ডিগ্রি কলেজের পুকুরে ২০ কেজি এবং কেশবপুর বাহারুল উলুম কামিল মাদ্রাসার পুকুরে ২০ কেজি পোনামাছ অবমুক্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া আলতাপোল আশ্রয়ণ প্রকল্পের পুকুর, মধুপল্লী পুকুর, পাঁজিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পুকুর, সন্ন্যাসগাছা আশ্রয়ণ প্রকল্পের পুকুর এবং আগরহাটি আশ্রয়ণ প্রকল্পের পুকুরে ২০ কেজি করে পোনামাছ অবমুক্ত করা হয়।

মৎস্যসম্পদ সমৃদ্ধ করার পাশাপাশি এসব জলাশয়ে দেশীয় প্রজাতির মাছের বিচরণ ও প্রজননের সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে জলাশয়গুলোতে মাছের প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য ধরে রাখা এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য মাছের সহজলভ্যতা বাড়াতেও এ উদ্যোগ ভূমিকা রাখবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, জলাশয়গুলোতে পোনামাছ অবমুক্ত করার মাধ্যমে দেশীয় মাছের উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি জলজ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখা সম্ভব। সরকারি জলাশয়গুলো যেন সঠিকভাবে ব্যবহৃত হয় এবং অবমুক্ত করা মাছ নিরাপদে বেড়ে উঠতে পারে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, শুধু পোনামাছ অবমুক্ত করলেই কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া সম্ভব নয়। জলাশয়ের পরিবেশ সুরক্ষা, পানির গুণগত মান বজায় রাখা এবং অবমুক্ত মাছের নিরাপদ বিচরণ ও প্রজননের সুযোগ নিশ্চিত করাও জরুরি। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয়দের সচেতনতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। উপজেলা মৎস্য অফিসের কর্মকর্তারা জানান, দেশীয় মাছের প্রজনন ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন জলাশয়ে পোনামাছ অবমুক্ত করা হয়েছে। এসব পোনামাছ যথাযথভাবে বেড়ে উঠলে স্থানীয়ভাবে মাছের উৎপাদন বাড়বে এবং জলাশয়ের জীববৈচিত্র্যও সমৃদ্ধ হবে।

অবমুক্ত করা পোনামাছ সংরক্ষণ ও জলাশয়ে অবৈধভাবে মাছ শিকার বন্ধে সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা প্রয়োজন।
সংশ্লিষ্টদের আশা, নিয়মিত এমন উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে কেশবপুরের জলাশয়গুলোতে দেশীয় মাছের প্রাচুর্য বাড়বে, সংরক্ষিত হবে জলজ জীববৈচিত্র্য এবং স্থানীয় পর্যায়ে মৎস্যসম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনা আরও শক্তিশালী হবে।

সিয়াম সরিষা
Link copied!