মোহাম্মদ আনিসুর রহমান , চরফ্যাশণ : মসজিদের ইমাম বলতেই সাধারণত ধর্মীয় শিক্ষা দেওয়া, নামাজ পড়ানো ও মুসল্লিদের দ্বীনের পথে আহ্বান জানানোর বিষয়টি সামনে আসে। তবে ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল ব্যতিক্রমী এক উদ্যোগ নিয়ে মানুষের প্রশংসা কুড়িয়েছেন। প্রায় তিন দশক ধরে নিজ উদ্যোগ ও অর্থায়নে সড়কের দুই পাশে গাছ লাগিয়ে তিনি বদলে দিয়েছেন একটি গ্রামের চিত্র।
ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে তিনি নার্সারি পরিচালনা করেন। সেই নার্সারিতে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা তিনি এলাকার বিভিন্ন সড়কের পাশে রোপণ করেন। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কসহ ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের দুই পাশে রয়েছে তার লাগানো সারি সারি তালগাছ। দূর থেকে দেখলে সড়কটি যেন সবুজ গেটের মতো মনে হয়। গাছের ছায়া ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য পথচারীদের মুগ্ধ করছে।
রেজাউল কিবরিয়া জানান, ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা দিয়ে ভূঁইয়ারহাটে নার্সারি স্থাপনের মাধ্যমে তার বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম শুরু হয়। সে সময় মাইকিং করে মানুষকে বিভিন্ন ধরনের গাছের চারা বিতরণ ও বৃক্ষরোপণে উৎসাহিত করতেন তিনি। তার দাবি, এ পর্যন্ত তিনি প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা রোপণ করেছেন। এর মধ্যে শুধু তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার। নানা কারণে সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব না হলেও তিনি এখনও ওমরপুর ইউনিয়নের বাউল সড়কসহ আরও চারটি সড়কে গাছ লাগানো ও পরিচর্যা অব্যাহত রেখেছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও তুহিন জানান, রেজাউল কিবরিয়ার লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে ফলন দিচ্ছে। বাউল গ্রামের রাস্তার দুই পাশে শত শত তালগাছ রয়েছে। এই রাস্তা দিয়ে চলাচলের সময় মনে হয় যেন গাছের তৈরি কোনো গেটের ভেতর দিয়ে যাচ্ছি। বিকেল ও সন্ধ্যায় অনেকে এখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও মানুষ গাছের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।
মসজিদের ইমাম মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যেই ইমামতির পাশাপাশি প্রায় তিন দশক ধরে রাস্তার পাশে বিভিন্ন ধরনের গাছ লাগিয়ে আসছি। আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। তিনি জানান, কয়েক বছর ধরে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছের বীজ ও চারা রোপণে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন। তার লক্ষ্য গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে সাজানো এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর, নিরাপদ ও বাসযোগ্য পরিবেশ তৈরি করা।
রেজাউল কিবরিয়ার এই ব্যক্তিগত উদ্যোগের প্রশংসা করে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, গাছ লাগানো একটি ভালো অভ্যাস। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের এই উদ্যোগের বিষয়ে খোঁজ নিয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন :