ফেনীতে কুয়েতে ভালো বেতনে চাকরির ভিসা দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে সাত ব্যক্তির কাছ থেকে ১৯ লাখ ৫৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ফেনী জেলা তাঁতী দলের আহ্বায়ক সরওয়ার জাহান শ্রাবণ ও তাঁর কুয়েতপ্রবাসী বড় ভাই আব্দুলের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীরা পাওনা ১৮ লাখ ৭০ হাজার টাকা উদ্ধার ও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানিয়েছেন। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ফেনী জেলার বিভিন্ন এলাকার সাতজন কর্মপ্রার্থীকে কুয়েতে ভালো বেতনে চাকরির ভিসা দেওয়ার আশ্বাস দেন সরওয়ার জাহান শ্রাবণ ও তাঁর ভাই আব্দুল। তাঁদের আশ্বাসে বিশ্বাস করে ভুক্তভোগীরা বিভিন্ন সময়ে নগদ ও ব্যাংকের মাধ্যমে সর্বমোট ১৯ লাখ ৫৫ হাজার টাকা প্রদান করেন। টাকা লেনদেনের স্বপক্ষে ব্যাংক জমার স্লিপসহ প্রয়োজনীয় প্রমাণ তাঁদের কাছে রয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, টাকা নেওয়ার পর অভিযুক্তরা ভুক্তভোগীদের হাতে ভিসার ফটোকপি দিলেও পরবর্তীতে সেগুলো ভুয়া বলে সন্দেহ তৈরি হয়। দীর্ঘদিন ধরে আজ-কাল বলে সময়ক্ষেপণ করা হয়। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কুয়েতে যেতে না পেরে ভুক্তভোগীরা নিজেদের অর্থ ফেরত চাইলে অভিযুক্ত দুই ভাই বিভিন্ন অজুহাতে টালবাহানা শুরু করেন।ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘ চাপের মুখে গত ৪ জুন ২০২৬ তারিখে ৫০ হাজার টাকা এবং ৬ জুলাই ২০২৬ তারিখে আরও ৩৫ হাজার টাকা ফেরত দেওয়া হয়। মোট ৮৫ হাজার টাকা ফেরত পেলেও এখনো তাঁদের পাওনা ১৮ লাখ ৭০ হাজার টাকা।
অভিযোগকারীরা জানান, অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে প্রতি মাসে ৫০ হাজার টাকা করে পরিশোধের আশ্বাস দেওয়া হলেও পরবর্তীতে আর কোনো টাকা দেওয়া হয়নি। পাওনা টাকা চাইতে গেলে উল্টো বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ তাঁদের। এতে নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন ভুক্তভোগীরা। এ ঘটনায় সাত ভুক্তভোগী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আবেদন করে অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, পাওনা টাকা উদ্ধার এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দেশের প্রচলিত আইনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।এ বিষয়ে অভিযুক্ত সরওয়ার জাহান শ্রাবণ ও তাঁর বড় ভাই আব্দুলের তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

আপনার মতামত লিখুন :