মহান মুক্তিযুদ্ধে অস্ত্র হাতে লড়েছেন দেশের স্বাধীনতার জন্য। জীবদ্দশায় অর্জন করেছেন মানুষের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা। মৃত্যুর কয়েক মাস পরও সেই ভালোবাসার প্রমাণ মিলল তাঁর কুলখানিতে। প্রিয় মানুষটিকে স্মরণ করতে গাজীপুর মহানগরের পূবাইলের খিলগাঁওয়ে জড়ো হলেন প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ। স্বজন, সহযোদ্ধা, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের উপস্থিতিতে পুরো এলাকায় সৃষ্টি হয় আবেগঘন পরিবেশ।শুক্রবার (৬ নভেম্বর) বাদ জুমা গাজীপুর মহানগরের ৪১ নম্বর ওয়ার্ডের খিলগাঁও জামে মসজিদে বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুর রউফ সরকারের কুলখানি উপলক্ষে বিশেষ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। পরে তার কবর জিয়ারত ও গণভোজের আয়োজন করা হয়। এতে প্রায় পাঁচ হাজার মুসল্লি অংশ নেন।
প্রিয় মানুষটিকে স্মরণ করতে দূরদূরান্ত থেকেও ছুটে আসেন আত্মীয়স্বজন, শুভাকাঙ্ক্ষী ও এলাকাবাসী। দোয়া ও মোনাজাতে অংশগ্রহণকারীরা মহান মুক্তিযুদ্ধে তার অবদান, দেশপ্রেম ও মানবিক কর্মকাণ্ড গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। এ সময় অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন হাফেজ মাওলানা আবদুল্লাহ আল হারুন (ঢাকা)।
কুলখানিতে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, রেল ও সড়ক প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশীদ, গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম ফজলুল হক মিলন, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শওকত হোসেন সরকার, গাজীপুর জেলা প্রশাসক নূরুল করিম ভূঁইয়া, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব দেলোয়ার হোসেন, প্রতিমন্ত্রীর একান্ত সচিব আবু বকর সরকার, জাহাঙ্গীর আলম, পূবাইল থানা বিএনপির সভাপতি মনির হোসেন বকুল, সাধারণ সম্পাদক হারুন উর রশীদ, বিএনপি নেতা ও কাউন্সিলর আসাদ হোসেন খান বুলবুল, গাজীপুর সাংবাদিক ইউনিটির সভাপতি মো. আখতার হোসেন, স্থানীয় ব্যবসায়ী মাসুদ রানা, জাকির হোসেন, আরিফ হোসেন ও খিলগাঁও গ্রামের যুবদল নেতা আরমান হোসেনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
উল্লেখ্য, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুর রউফ সরকার গত ২০ জুলাই রাতে রাজধানীর ধানমন্ডির পপুলার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৩ বছর। দীর্ঘদিন বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছিলেন তিনি। পরদিন ২১ জুলাই বিকেলে খিলগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে গাজীপুর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। পরে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়া আবদুর রউফ সরকার শুধু একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাই ছিলেন না, এলাকায় সজ্জন, বিনয়ী ও সমাজসেবী ব্যক্তি হিসেবেও তার পরিচিতি ছিল। তিনি বর্তমান মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর একান্ত সচিব আবু বকর সরকারের বাবা। তার মৃত্যুতে পরিবার-পরিজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে গভীর শোকের সৃষ্টি হয়। প্রায় পাঁচ হাজার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ যেন আবারও প্রমাণ করল, মানুষের জন্য যারা ভালোবাসা ও সম্মানের জায়গা তৈরি করে যান, মৃত্যুর পরও তাঁরা মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকেন।

আপনার মতামত লিখুন :