রাজধানীর মহাখালী বাস টার্মিনাল ও আশপাশের সড়কে যানজট নিরসন এবং গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরাতে যৌথ অভিযান পরিচালনা করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ, পরিবহন শ্রমিক সংগঠন ও মালিক সমিতি। বুধবার সকাল থেকে মহাখালী বাস টার্মিনাল ও সংলগ্ন সড়কে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এতে ট্রাফিক পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি পরিবহন শ্রমিক ও মালিক সংগঠনের নেতারা অংশ নেন। অভিযানে নেতৃত্ব দেন ট্রাফিক গুলশান বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. তারেক জুবায়ের। এ সময় ট্রাফিক গুলশান বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) মো. জিয়াউর রহমান এবং বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রমবিষয়ক সম্পাদক মো. হুমায়ুন কবির খান উপস্থিত ছিলেন।
অভিযানকালে মহাখালী বাস টার্মিনালের বাইরে ও প্রধান সড়কের ওপর অপেক্ষমাণ বাস সরিয়ে নেওয়া, নির্ধারিত স্থানে বাস পার্কিং, সিরিয়াল অনুযায়ী বাস ছাড়ার ব্যবস্থা এবং সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়। পাশাপাশি ফুটপাত ও যাত্রী চলাচলের স্থান দখল করে রাখা যানবাহন এবং অন্যান্য প্রতিবন্ধকতা সরিয়ে দেওয়ার কার্যক্রম চালানো হয়। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মো. হুমায়ুন কবির খান বলেন, মহাখালী বাস টার্মিনালের যানজট ও বাস ব্যবস্থাপনার সমস্যা দীর্ঘদিনের। এ সমস্যা সমাধানে ট্রাফিক পুলিশ, মালিক ও শ্রমিক সংগঠনকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, সড়কের ওপর বাস দাঁড় করিয়ে যাত্রী ওঠানো, নির্ধারিত সিরিয়াল ভঙ্গ কিংবা টার্মিনালের বাইরে দীর্ঘসময় বাস অপেক্ষমাণ রাখার কারণে যাতে যানজট সৃষ্টি না হয়, সেদিকে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। শ্রমিকদের এসব বিষয়ে সচেতন করার পাশাপাশি বাস পরিচালনায় নির্ধারিত নিয়ম মেনে চলার নির্দেশনা দেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, শ্রমিক সংগঠনের পক্ষ থেকে বাসের সিরিয়াল, পার্কিং ও যাত্রী ওঠানামার ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হবে। একই সঙ্গে মালিক সমিতি, টার্মিনাল কর্তৃপক্ষ ও ট্রাফিক পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। মহাখালী বাস টার্মিনালের যানজট কমাতে দীর্ঘসময় অপেক্ষমাণ ও গ্যাপের বাসগুলো পূর্বাচলের অস্থায়ী ডিপোতে ধাপে ধাপে স্থানান্তরের কার্যক্রম চলছে। ট্রাফিক বিভাগের পক্ষ থেকে গত ১ সেপ্টেম্বর থেকেই এ ব্যবস্থাপনার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, টার্মিনালের ভেতরে দীর্ঘসময় বাস রেখে দেওয়ার পরিবর্তে নির্ধারিত ট্রিপের সময় অনুযায়ী বাস টার্মিনালে প্রবেশ করানো হলে টার্মিনাল ও আশপাশের সড়কে বাসের চাপ কমবে। এ ছাড়া মহাখালী টার্মিনালের সামনের প্রধান সড়কে বাস দাঁড় করিয়ে যাত্রী ওঠানোর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
গত ১০ সেপ্টেম্বর বাস ডাম্পিংয়ের প্রতিবাদে পরিবহন শ্রমিকরা মহাখালী টার্মিনালসংলগ্ন সড়ক অবরোধ করলে উভয় পাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এরপর টার্মিনালে বাস পার্কিং, অপেক্ষমাণ বাস, সিরিয়াল এবং সড়কে যাত্রী ওঠানামার বিষয়গুলো নিয়ে মালিক-শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব বাড়ানো হয়। শ্রমিক ফেডারেশন ও সংশ্লিষ্টদের সূত্রে জানা গেছে, মহাখালী এলাকায় যানজট কমাতে একদিনের অভিযানেই কার্যক্রম সীমাবদ্ধ না রেখে ধারাবাহিকভাবে নজরদারি ও সমন্বয় কার্যক্রম চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নির্ধারিত স্থানে বাস পার্কিং, সিরিয়াল অনুযায়ী বাস পরিচালনা, টার্মিনালের বাইরে দীর্ঘসময় বাস দাঁড় করানো বন্ধ এবং মালিক-শ্রমিক-পুলিশের মধ্যে নিয়মিত সমন্বয় বজায় রাখা গেলে মহাখালী এলাকার যানজট নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব।

আপনার মতামত লিখুন :