শিশু অধিকার বিষয়ক সংসদীয় ককাস-এর প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক , প্রতিদিনের কাগজ

প্রকাশিত: ০৫ নভেম্বর, ২০২৬, ০৪:৫২ পিএম

শিশু অধিকার বিষয়ক সংসদীয় ককাস-এর প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত

ফাইল ফটো

তোবারক হোসেন খোকন, নিজস্ব প্রতিবেদক : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নবগঠিত “শিশু অধিকার বিষয়ক সংসদীয় ককাস-এর প্রথম বৈঠক আজ বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ককাসের সভাপতি শিরীন সুলতানা এমপির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ককাসের পৃষ্ঠপোষক ও জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পীকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এমপি।

বৈঠকে ককাসের সদস্য মোরশেদ মিলটন এমপি, এ কে এম ফজলুল হক মিলন এমপি, শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল এমপি, আন্না মিন্জ এমপি এবং মাধবী মার্মা এমপি অংশগ্রহণ করেন।

ককাসের সভাপতি তাঁর স্বাগত বক্তব্যে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, দেশনেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী বীর শহিদদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন এবং তাঁদের রুহের মাগফেরাত কামনা করেন। একই সঙ্গে তিনি ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে নিহত ছাত্র-জনতাকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন এবং আহতদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

বৈঠকে শিশু অধিকার সুরক্ষা, শিশু-বান্ধব আইন ও নীতি প্রণয়ন, বাজেট বরাদ্দ এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণসহ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সংসদ সদস্যদের কার্যকর ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এ লক্ষ্যে উন্নয়ন সহযোগী ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সম্পৃক্ত করে সংসদীয় উদ্যোগ জোরদার, নীতি-আলোচনা, তদারকি এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়ে বিভিন্ন প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডেপুটি স্পীকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এমপি ককাসের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, শিশু অধিকার প্রতিষ্ঠায় এ ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সংসদ সদস্যদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সহযোগিতার মাধ্যমে শিশু অধিকার সুরক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।

তিনি বলেন, দেশে শিশু অধিকার ও সুরক্ষার বিষয়ে অনেক আইন রয়েছে। তবে আইনের যথাযথ প্রয়োগ ও বাস্তবায়নই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে আইন, বাজেট এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মধ্যে সমন্বয়ের পাশাপাশি স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। শিশু অধিকার বিষয়ে জনগণের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে সরকারের প্রচার-প্রচারণা জোরদার করার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন। বিশেষ করে তৃণমূল পর্যায়ে কর্মরত ব্যক্তিদের যথাযথ প্রশিক্ষণ ও উদ্বুদ্ধকরণের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন তিনি।

ডেপুটি স্পীকার আরও বলেন, শিশু অধিকার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে দলমত, শ্রেণি-পেশা কিংবা সমতল ও পাহাড়ি অঞ্চলের কোনো বিভাজন থাকা উচিত নয়। প্রতিটি শিশুর অধিকার নিশ্চিত করতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ এবং শিশুদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে সংসদ ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে।

ককাসের কার্যক্রম গতিশীল করতে তিনি সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ ও সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করার আহ্বান জানান। শিশু অধিকার-সংশ্লিষ্ট প্রস্তাবিত আইন ও খসড়া আইন পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংশোধনের উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, প্রয়োজনে আইন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সংশোধনী প্রস্তাব উত্থাপন করা যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে নির্বাহী বিভাগে কোনো প্রতিবন্ধকতা থাকলে সংসদ সদস্যরা বেসরকারি বিলের মাধ্যমেও বিষয়টি সংসদে উত্থাপন করতে পারেন। এ বিষয়ে সংসদের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাসও দেন তিনি।

ডেপুটি স্পীকার নির্বাহী বিভাগকে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করে ককাসের কার্যক্রম ত্বরান্বিত করার আহ্বান জানান। বাংলাদেশে এ ধরনের সংসদীয় ককাসের উদ্যোগকে কার্যকর ও শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানে রূপ দিতে একটি সমন্বিত টিম হিসেবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পারস্পরিক সহযোগিতা ও অংশীদারত্বের ভিত্তিতে ককাসের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো শক্তিশালী করার জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানান তিনি। এ সময় তিনি ককাসের সদস্য ও অংশীজনদের জাতীয় সংসদের অধিবেশন প্রত্যক্ষ করার আমন্ত্রণও জানান।

বৈঠকে শিশু অধিকার সুরক্ষায় বিশেষ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ক্ষেত্র হিসেবে কন্যাশিশু, প্রতিবন্ধী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর শিশু, পাহাড়ি অঞ্চলের শিশু, অসহায়, এতিম ও দুস্থ শিশুদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পুষ্টি নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি শিশু সুরক্ষায় আইনি ব্যবস্থার পাশাপাশি তাদের নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ ও ধর্মীয় অনুশাসন সম্পর্কে যথাযথ শিক্ষা প্রদানের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

ককাসের সভাপতি শিরীন সুলতানা এমপি বলেন, বর্তমান সরকার জনকল্যাণমুখী বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। এসব কার্যক্রমের সুফল যেন জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে যায়, সে বিষয়ে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। শিশুদের সার্বিক সুরক্ষা ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

বৈঠকে জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরামের সভাপতি ও প্রতিনিধিবৃন্দ, ইউনিসেফ বাংলাদেশের প্রতিনিধি, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)-এর প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী ও সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। এ ছাড়া মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সিয়াম সরিষা
Link copied!