৮০০ পর্যটক নিয়ে সেন্টমার্টিনের উদ্দেশ্যে মৌসুমের প্রথম জাহাজ

মনসুর আলম মুন্না , স্টাফ রিপোর্টার, কক্সবাজার

প্রকাশিত: ০৫ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:৫৯ এএম

৮০০ পর্যটক নিয়ে সেন্টমার্টিনের উদ্দেশ্যে মৌসুমের প্রথম জাহাজ

দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে কক্সবাজার থেকে সেন্টমার্টিন দ্বীপে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সরকারি অনুমোদন পাওয়া এমভি বার আউলিয়া, এমভি কর্ণফুলী ও এমভি টেকনাফ পর্যটক নিয়ে দ্বীপের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছে। এর আগে বুধবার জাহাজমালিকদের সংগঠন সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (স্কোয়াব) সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর জাহাজ চলাচল শুরুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, পর্যটকের সংখ্যা বিবেচনায় না নিয়ে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেই বৃহস্পতিবার সকাল থেকে জাহাজ চলাচল শুরুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গত ১ নভেম্বর থেকে পর্যটকদের জন্য সেন্টমার্টিন ভ্রমণের সুযোগ চালু হলেও প্রশাসনিক ও অনুমোদনসংক্রান্ত জটিলতায় এতদিন জাহাজ চলাচল শুরু করা সম্ভব হয়নি। পরে নৌপরিবহন অধিদপ্তর, পরিবেশ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর অনুমোদন এবং কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের সম্মতি পাওয়ায় জাহাজ চলাচলের পথ সুগম হয়। জাহাজগুলো কক্সবাজার শহরের বাঁকখালী নদীর নুনিয়ারছড়া ঘাট থেকে সেন্টমার্টিনের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাবে। তিনটি জাহাজের সম্মিলিত যাত্রী ধারণক্ষমতা ২ হাজার ২৯৮ জন। এর মধ্যে এমভি বার আউলিয়ায় ৮৫০, এমভি কর্ণফুলীতে ৭৩২ এবং এমভি টেকনাফে ৭১৬ জন যাত্রী পরিবহন করা যাবে।

নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, এমভি বার আউলিয়া সকাল ৭টায় কক্সবাজার থেকে যাত্রা শুরু করে সেন্টমার্টিন থেকে বেলা আড়াইটায় ফিরবে। এমভি কর্ণফুলী সকাল ৭টা ১৫ মিনিটে ছেড়ে গিয়ে ফিরবে দুপুর ২টা ১৫ মিনিটে। অন্যদিকে এমভি টেকনাফ সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে যাত্রা শুরু করে দ্বীপ থেকে বিকেল সাড়ে ৩টায় কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে রওনা দেবে।সরকারের সংশোধিত নির্দেশনা অনুযায়ী, গত ১ নভেম্বর থেকে আগামী বছরের ১৫ মার্চ পর্যন্ত পর্যটকেরা সেন্টমার্টিনে যাতায়াতের পাশাপাশি রাত্রিযাপন করতে পারবেন। তবে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৫০০ পর্যটক দ্বীপে যাওয়ার অনুমতি পাবেন। প্রত্যেক পর্যটককে ১০০ টাকা পরিবেশ সংরক্ষণ ফি দিতে হবে। একই সঙ্গে ভ্রমণের জন্য ট্রাভেল পাস ও কিউআর কোডযুক্ত টিকিট বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

পর্যটকদের জন্য দ্বীপ উন্মুক্ত হলেও পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বেশ কিছু বিধিনিষেধ বহাল রয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী, রাতে সমুদ্রসৈকত ও আশপাশের এলাকায় আলো জ্বালানো, উচ্চ শব্দ সৃষ্টি এবং বারবিকিউ পার্টির আয়োজন নিষিদ্ধ। কেয়াবনে প্রবেশ, কেয়া ফল সংগ্রহ ও কেনাবেচাও করা যাবে না। এ ছাড়া সামুদ্রিক কাছিম, পাখি, প্রবাল, শামুক, ঝিনুক, তারামাছ, রাজকাঁকড়া, সামুদ্রিক ঘাস ও শৈবালসহ দ্বীপের প্রাকৃতিক সম্পদ ও জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি করা যাবে না। সৈকতে মোটরসাইকেল, সি-বাইকসহ সব ধরনের যানবাহন চলাচলও নিষিদ্ধ। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল শুরু হওয়ায় সেন্টমার্টিন ভ্রমণে আগ্রহীদের মধ্যে নতুন করে প্রাণচাঞ্চল্য তৈরি হবে বলে আশা করছেন পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। তবে পর্যটন কার্যক্রমের পাশাপাশি দ্বীপের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছেন তারা।

সিয়াম সরিষা
Link copied!