মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন প্রধানমন্ত্রী

মোঃ ইশতিয়াক আহমেদ , মোংলা (বাগেরহাট) সংবাদদাতা

প্রকাশিত: ০৫ নভেম্বর, ২০২৬, ০৩:৫৭ পিএম

মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন প্রধানমন্ত্রী

দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি, আধুনিকায়ন এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও লজিস্টিকস কার্যক্রম সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ‘মোংলা বন্দরের সুবিধাদি সম্প্রসারণ ও উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় মোংলা বন্দরের ৯ নম্বর জেটিতে প্রধানমন্ত্রী এই প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে মোংলা বন্দর বাংলাদেশের প্রথম স্মার্ট বন্দরে রূপান্তরিত হবে।

অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছালে বন্দর কর্তৃপক্ষ প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানায়। এরপর চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সিসিইসিসি (CCECC) কর্তৃক প্রস্তুতকৃত প্রকল্পের একটি পাওয়ার পয়েন্ট ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়, যেখানে আগামী চার বছরে মোংলা বন্দরের রূপরেখা তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফা। ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পর প্রধানমন্ত্রী একটি বৃক্ষরোপণ করেন এবং দেশ ও জাতির সমৃদ্ধি কামনায় মোনাজাতে অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে নৌপরিবহন, সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান, বন, পরিবেশ ও জলবায়ু প্রতিমন্ত্রী লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম, নৌপরিবহন সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদিন ফারুক, ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন এবং নৌপরিবহন সচিব মো. আতাউর রহমান খানসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া চীন থেকে সিআরসিসি (CRCC)-এর চেয়ারম্যান দাই হেগেন, চীনা দূতাবাসের ইকোনমিক কাউন্সিলর সং ইয়াং এবং সিসিইসিসি-এর চেয়ারম্যান লি চংইয়াং অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

প্রকল্পটির মোট ব্যয় ৩৪৫ দশমিক ৭৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং এর নির্মাণকাল নির্ধারণ করা হয়েছে চার বছর। প্রকল্পের আওতায় ৩৬৮ মিটার লম্বা ও ৪০ মিটার চওড়া দুটি আধুনিক জেটি (১০ ও ১১ নম্বর) নির্মাণ করা হবে, যেখানে একসাথে দুটি ২০ হাজার ডিডব্লিউটি (DWT) জাহাজ অথবা একটি ৫০ হাজার ডিডব্লিউটি জাহাজ ভিড়তে পারবে। এছাড়া ৪১টি অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতির সংস্থান রাখা হয়েছে। প্রকল্প শেষে বন্দরে কন্টেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা ঘণ্টায় ৩০টিতে উন্নীত হবে এবং বছরে ৪ লাখ টিইইউএস (TEUs) কন্টেইনার হ্যান্ডলিং করা সম্ভব হবে।

উল্লেখ্য, প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পেছনে দীর্ঘ ১০ বছরের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা রয়েছে। ২০১৬ সালের ১৪ অক্টোবর চীনের রাষ্ট্রপতির ঢাকা সফরকালে স্বাক্ষরিত সমঝোতা চুক্তির মাধ্যমে এর যাত্রা শুরু হয়। পরবর্তীতে বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে ২০২৬ সালের ১০ অক্টোবর চায়না এক্সিম ব্যাংকের সাথে ঋণচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্যের ব্যাপক প্রসার ঘটবে এবং হাজারো মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। প্রস্তাবিত চীনা বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল ও আধুনিক বন্দরের সমন্বয়ে মোংলা বন্দর ভবিষ্যতে সামুদ্রিক বাণিজ্য, শিল্প বিনিয়োগ ও আঞ্চলিক লজিস্টিকসের অন্যতম প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হবে।

সফরসূচি অনুযায়ী, ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে প্রধানমন্ত্রী খুলনা সার্কিট হাউজে যাত্রা করেন এবং বিকেলে খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস (সিজন-২)’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। দিনব্যাপী সফর শেষে বিকেলে তিনি ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হন।

Link copied!