চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার ছদাহা ইউনিয়নের মিঠাদিঘী এলাকায় অবস্থিত ছদাহা কেফায়েত উল্লাহ উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি পদে মোহাম্মদ ইসহাক এমএ-কে বসানোর উদ্যোগের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বিএনপির নেতাদের প্রভাবিত করে অর্থের বিনিময়ে তাঁর নাম সভাপতি হিসেবে সুপারিশ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ছবি ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
স্থানীয় সূত্র ও অভিযোগকারীদের দাবি, প্রতিষ্ঠানটির গভর্নিং বডির গুরুত্বপূর্ণ পদটি নিজেদের অনুকূলে নিতে আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য ড. আবু রেজা মোহাম্মদ নদভী ও সাবেক এমপি মোতালেব মাষ্টারের আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত মোহাম্মদ ইসহাক এমএ দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্নভাবে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালিয়ে আসছেন। এরই ধারাবাহিকতায় তাঁকে সভাপতি পদে বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ।
স্থানীয়দের ভাষ্য, আশির দশকের পর ছদাহা কেফায়েত উল্লাহ উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার শুরুতে প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ছিলেন প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম কেফায়েত উল্লাহ। ২০০৫ সালে তাঁর মৃত্যুর পর বিভিন্ন সময়ে নানা কৌশলে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা কমিটির সভাপতি পদে বিভিন্ন ব্যক্তির নাম প্রস্তাব ও সুপারিশ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, মোহাম্মদ ইসহাক এমএ দীর্ঘদিন স্থানীয় আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। ২০১৮ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সাতকানিয়া-লোহাগাড়া এলাকায় আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশগ্রহন করে কার্যক্রম পরিচালনা করতে দেখা যায়। এ-সংক্রান্ত একাধিক ছবি বিভিন্ন সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, বিএনপি নেতা মহিউদ্দিনকে অর্থ দিয়ে ডিও লেটারে মোহাম্মদ ইসহাক এমএর নাম অন্তর্ভুক্ত করানো হয়েছে। এর মাধ্যমে তাঁকে প্রতিষ্ঠানটির গভর্নিং বডির সভাপতি পদে বসানোর চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ তাঁদের। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডির গুরুত্বপূর্ণ পদে কাউকে মনোনয়নের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাব কিংবা অর্থ লেনদেনের অভিযোগ উঠলে তা প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করতে পারে। তাঁরা অভিযোগের বিষয়টি যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর আবদুল্লাহ আল মামুন চৌধুরী বলেন, “আমি আপনার কাছে শুনলাম। প্রমাণ থাকলে দিন। যাচাই-বাছাই করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অভিযোগের বিষয়ে মোহাম্মদ ইসহাক এমএ ও বিএনপি নেতা মহিউদ্দিনের বক্তব্য জানতে তার ব্যক্তিগত মোবাইল নাম্বারে বারবার ফোন করা হলেও পাওয়া যায়নি।

আপনার মতামত লিখুন :