একদিকে মিয়ানমার সীমান্ত, অন্যদিকে বঙ্গোপসাগর ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফ বরাবরই দেশের গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত অঞ্চল। সীমান্তের ওপারের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি, মাদক ও চোরাচালানের ঝুঁকি, অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং উপকূলীয় এলাকার নিরাপত্তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ রয়েছে। এমন বাস্তবতায় সীমান্ত এলাকার মানুষের কথা শুনতে টেকনাফে বৈঠকে বসেছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি।
বৈঠকে উখিয়া-টেকনাফের উপকারভোগী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের বিভিন্ন সমস্যা, সীমান্ত পরিস্থিতি, নদী-খাল ও উপকূলীয় এলাকার নানা বিষয় এবং জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট সমস্যা নিয়ে আলোচনা হয়। স্থানীয়দের বক্তব্যে উঠে আসে সীমান্তবর্তী জনপদের নিরাপত্তা, জীবন-জীবিকা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা প্রত্যাশার কথা। এ সময় কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে স্থানীয়দের পক্ষ থেকে সীমান্তে নিরাপত্তা আরও জোরদার, মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধ এবং সীমান্তবর্তী মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার দাবি উঠে আসে। পাশাপাশি সীমান্তের নদী ও খালপথ ব্যবহার করে যাতে কোনো ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালিত হতে না পারে, সেদিকেও নজরদারি বাড়ানোর প্রত্যাশা জানান স্থানীয়রা। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মতে, একটি নিরাপদ সীমান্ত শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্বের বিষয় নয়, এর সঙ্গে স্থানীয় জনগণের সচেতনতা, জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন ও সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সমন্বিত ভূমিকা জরুরি। সীমান্তবর্তী মানুষের জীবন-জীবিকা স্বাভাবিক রাখতে নিরাপত্তার পাশাপাশি যোগাযোগব্যবস্থা, নদীভাঙন রোধ ও উপকূলীয় সুরক্ষাকেও গুরুত্ব দেওয়ার দাবি জানানো হয়।
তাদের মতে, সীমান্তে মাদক ও চোরাচালানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের পাশাপাশি স্থানীয় তরুণদের কর্মসংস্থান ও সামাজিক সচেতনতা বাড়ানো গেলে অপরাধপ্রবণতা কমানো সম্ভব। একই সঙ্গে সীমান্তবর্তী দুর্গম এলাকায় নিয়মিত নজরদারি ও দ্রুত প্রশাসনিক সেবা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রত্যাশা, সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে বৈঠকে উঠে আসা বিষয়গুলো শুধু আলোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। বিশেষ করে মাদক ও চোরাচালান বন্ধ, অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকানো এবং সীমান্তবর্তী সাধারণ মানুষের নিরাপদ চলাচল ও জীবনযাপন নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
বৈঠকে উপস্থিত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাও মনে করেন, উখিয়া-টেকনাফের মতো গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় জনগণের মধ্যে সমন্বয় আরও বাড়ানো প্রয়োজন। সব মিলিয়ে, টেকনাফে পানিসম্পদ মন্ত্রীর সঙ্গে স্থানীয়দের এই মতবিনিময় শুধু একটি বৈঠক নয়, সীমান্তবর্তী মানুষের দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা, জীবন-জীবিকা ও উন্নয়ন প্রত্যাশার কথাগুলো নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবেই দেখছেন স্থানীয়রা।

আপনার মতামত লিখুন :